Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

জয়ীরা পরাজিত

একদল ব্যবসায়ী একটি সভায় যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে তাদের পরিবারকে এই বলে বেরিয়েছিলেন যে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খাবেন। কিন্তু মিটিং এ যা হয়, এক বিষয় থেকে অন্যবিষয়ে আলোচনা চলে যায়, ফলে সময়ে মিটিং শেষ হল না।
খুব দেরী হওয়ার জন্য বিমানে ফেরার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হলেন। শেষ মুহূর্তে বিমান বন্দরে পৌঁছে, বিমানে ওঠার জন্য দৌড়ে বিমানে দিকে এগিয়ে গেলেন। দৌড়াবার সময় একজনের সঙ্গে একটি টেবিলে ধাক্কা লেগে টেবিলের ওপর রাখা ফলের ঝুড়ি থেকে ফল চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। আঘাত পেলেও তাদের থামার সময় ছিল না।
শেষে পর্যন্ত বিমানে উঠে সকলে স্বস্তির-নিঃশ্বাস ফেললেন। কিন্তু একজন উঠে দাঁড়িয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি যা দেখলেন তাতে তার আনন্দ হলো এই ভেবে যে তিনি তার বন্ধুদের কাছে বিদায় নিয়ে চলে এসেছেন। তার ধাক্কায় যে টেবিলটি উল্টে গিয়েছিল তার পেছনে বসে ১০ বছরের একটি অন্ধ মেয়ে ফল বিক্রি করছিল;
এই ফল বিক্রি একেবারেই নষ্ট হবে না”। পকেট থেকে একটি দশ ডলারের নোট বার করে মেয়েটিকে দিয়ে বলল, “এতেই তোমার ক্ষতিপূরণ হবে”, এই বলে সে চলে গেল। মেয়েটি কিছুই দেখতে পেল না, শুধু শুনলো পায়ের শব্দ দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। সে তখন পিছন থেকে চিৎকার করে বলল, “তুমি কি ঈশ্বর?”
লোকটি সেই বিমানে যেতে পারল না। কিন্তু তবুও সে বিজয়ী। মেডেল না পেয়েও কেউ জয়ী হতে পারে। আবার মেডেল পেলেও সেপরাজিত বলে গণ্য হতে পারে; যদি জয় সঠিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে না পাওয়া যায়। 


মুরগীর ইচ্ছা

বিশাল এক পাহাড়ের উপরে এক ঈগল বাসা বানিয়েছিলো। ঈগলের বাসায় ছিলো তার চার চারটি ডিম। প্রতিদিন সকালে সে এগুলো রেখে খাবারের খোঁজে উড়ে যেত। একদিন ঈগল যখন বাসার বাইরে ছিলো তখন ভূমিকম্পে গোটা পাহাড় নড়ে উঠলো। এতে ঈগলের একটি ডিম বাসা থেকে ছিটকে পরে গেল। গড়াতে গড়াতে সেই ডিম এসে পড়লো পাহাড়ের নিচের এক মুরগীর বাসার উঠোনে । মুরগী সেই ডিমটিকে নিজের বাসায় নিয়ে এলো। অন্যান্য ডিমের সাথে রাখলো। যত্ন করে তা দিতে থাকলো। একদিন সেই ডিম ফুটে ঈগলের একটি সুন্দর বাচ্চাও বের হলো। মুরগীর বাচ্চাদের সাথেই ঈগলের বাচ্চাটি বড় হয়ে উঠতে লাগলো। কিন্তু সে ভেতর থেকে যে সবসময় অন্য কিছু অনুভব করতো। আকাশে একদিন ঈগলের একটা ঝাঁককে উড়ে বেড়াতে দেখে সে মুরগীকে বলল ইস, যদি আমিও তাদের মত উড়ে বেড়াতে পারতাম। মুরগী হেসে উত্তর দিলো, তুমি কিভাবে উড়বে? তুমি তো মুরগী এবং মুরগী কখনো উড়ে না। ঈগল মাঝে মাঝেই তার স্বগোত্রীয়দের উড়ে বেড়াতে দেখতো এবং স্বপ্ন দেখতো সেও তাদের মতই উড়ে বেড়াবে। কিন্তু প্রতিবার সে তার স্বপ্নের কথা জানালে মুরগী বলতো যে এটা একেবারেই অসম্ভব। মুরগীর এই কথাটিই ঈগল বিশ্বাস করতে শিখলো এবং তার জীবনটা বাকী মুরগীদের মতই কাটিয়ে দিলো। অনেক দিন এভাবে কাটানোর পর একদিন সে মারাও গেল। আসলে আমাদের জীবনেও এটা চরমতম সত্য। তুমি যা বিশ্বাস করতে শেখো একদিন তুমি তাই হয়ে উঠবে। তাই তুমি যদি ঈগলের মত উড়ার স্বপ্ন দেখো, তবে সেই স্বপ্নকেই অনুসরন করো। মুরগীর কথায় কান দিতে যেও না।


ভালো কাজের ফল অবশ্যই ভালো হয়

স্কটল্যান্ডের এক গরিব কৃষক। তার নাম ফ্লেমিং। একদিন তিনি জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ কাছের পুকুর থেকে চিৎকার ভেসে এলো, ‘
বাঁচাও। বাঁ-চা-ও!’
তিনি কাজ ফেলে ছুটে গেলেন। সেখানে একটি ছোট ছেলে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। পানিতে হাত নাড়ছে আর আতঙ্কে চিৎকার করছে। কৃষক ফ্লেমিং ছেলেটাকে উদ্ধার করলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ছেলেটা রেহাই পেল।
পরদিন সকালে একটা চমৎকার গাড়ি এসে থামল কৃষকের বাড়ির সামনে। মার্জিত পোশাক পরা এক ভদ্রলোক গাড়ি থেকে নেমে এলেন। কৃষক ফ্লেমিং যে ছেলেটিকে বাঁচিয়েছেন, ভদ্রলোক নিজেকে সেই ছেলেটির বাবা হিসেবে পরিচয় দিলেন।
‘আমি আপনাকে প্রতিদান দিতে চাই। আপনি আমার ছেলের জীবন বাঁচিয়েছেন।’ ভদ্রলোক বললেন।
‘না, আমি যা করেছি তার প্রতিদান নিতে পারব না। ক্ষমা করবেন।’ জবাব দিলেন সেই কৃষক। এমন সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এলো তার ছেলে।
‘এটা কি আপনার ছেলে?’ ভদ্রলোক জানতে চাইলেন।
কৃষক গর্বের সঙ্গে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, এ আমার ছেলে।’
‘আমি আপনাকে একটি প্রস্তাব দিতে চাই। আমার ছেলের মতো আপনার ছেলেকেও পড়ালেখা করানোর সুযোগ আমায় দিন। যদি আপনার সামান্য গুণও ওর মধ্যে থাকে
তাহলে নিশ্চয় একদিন এমন বড় মানুষ হবে- আমরা সবাই তাকে নিয়ে গর্ব করব।’
বাস্তবে সেটিই হল। কৃষক ফ্লেমিংয়ের ছেলেকে ভর্তি করানো হল সেরা স্কুলে। যথাসময়ে সেই ছেলেটি স্নাতক পাস করলেন লন্ডনের সেন্ট মেরিজ হসপিটাল মেডিকেল স্কুল থেকে। আর পেনিসিলিন আবিষ্কার করে সারা দুনিয়ায় তিনি পরিচিতি লাভ করলেন স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং হিসেবে।
কয়েক বছর পরের কথা। পুকুর থেকে বাঁচানো ভদ্রলোকের সেই ছেলেটি নিউমোনিয়ায় মারাত্মকভাবে ভুগছিলেন। মর মর অবস্থা।
সে সময়ে তার প্রাণ বাঁচল কিসে? সেই পেনিসিলিনে।
সেই ভদ্রলোকের নাম কী? লর্ড রানডলফ চার্চিল।
তার ছেলের নাম? স্যার উইস্টন চার্চিল।
নীতিকথা : ভালো কাজের ফল অবশ্যই ভালো হয়।